সংবাদ শিরোনামঃ
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর সব চেয়ে নৃশংস রাজনৈতিক ঘটনা: সেতুমন্ত্রী চকরিয়া প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন জাহেদ চৌধুরী সভাপতি, মিজবাউল হক সম্পাদক নিউইয়র্কে লাঞ্ছিত ইমরান এইচ সরকার (ভিডিও) ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশের সহযোগীতায় গড়েয়া গরুর হাটে জাল নোট সনাক্তকরণ বুথ দেবীগঞ্জে জাতীয় শোক দিবস পালিত এ দেশের মানুষকে কেউ দাস বানিয়ে রাখতে পারবে না: ড. কামাল বীরগঞ্জে এতিম ও ছিন্নমূল শতাধিক পথ শিশুদের  মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ বান্দরবানে ইয়াংছা-বনপুর সড়ক যেন মরণফাঁদ ! লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের শোক র‌্যালী ভ্যান চালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নামে জমি, এরপর…



রায়গঞ্জে ঝাড়ফুঁকে লাখ লাখ টাকা হাতাচ্ছে ‘জিনের বাদশা’!

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ আগস্ট, ২০১৮

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বামনবাগ গ্রামের কথিত জিনের বাদশা হাফিজুল ইসলাম (১৮) ঝাড়ফুঁক চিকিৎসার মাধ্যমে সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকার সচেতন মহল স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের কারণে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তারা দ্রুত প্রতারক জিনের বাদশাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার বামনবাগ গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে ও বেগম নূরুন নাহার তর্কবাগীশ অনার্স কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হাফিজুল ইসলাম স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র ও দালালদের ছত্রছায়ায় এলাকায় জিনের বাদশা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

প্রায় এক বছর ধরে নিজ বাড়িতে আসন বসিয়ে দালালদের মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে যৌন, প্রতিবন্ধী, মানসিক, হার্টের চিকিৎসা, ভেঙে যাওয়া সংসার জোড়া লাগানো, প্রেমের বন্ধন তৈরি, ভূত-পেতনি আক্রান্তদের চিকিৎসাসহ সব ধরনের চিকিৎসা দেয়ার অজুহাতে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। বিশেষ করে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী মেয়েদের আনাগোনা বেশি দেখা যায় বলে জানান তারা।

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে নিয়োজিত নারী-পুরুষ দালালরা কেরামতির সাফাই গেয়ে জিনের বাদশার প্রতি আকৃষ্ট করছেন। এসব দালালরা মোটা অঙ্কের কমিশনের ভিত্তিতে কাজ করে থাকেন।

কবিরাজি চিকিৎসা নিতে আসা কাজিপুর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের কুড়ালিয়া গ্রামের মৃত দেলবাহার আলীর ছেলে ছোবাহান আলী বলেন, আমার ছেলে জাহিদুল ইসলাম বেশকিছু দিন ধরে অস্বাভাবিক আচরণ করছে। তাই কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নিতে এসেছি।

তিনি বলেন, দেখানোর পর জিনের বাদশা বলেছেন, ‘আপনার ছেলেকে বান (জাদুটোনা) মেরেছে। বান ছাড়াতে দুই হাজার টাকা লাগবে।’ পরে এক হাজার ৮০০’ টাকা জমা দিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসে আছি। এখনো সিরিয়াল পাইনি। জিনের বাদশার লোকজনকে তাগাদা দিলে তারা বলেন, আপনার ছেলেকে ধ্যানে বসার পর চিকিৎসা দেয়া হবে।

সদর উপজেলার বাগবাটী ইউনিয়নের ঘোরাচড়া গ্রামের জবেদা খাতুন বলেন, আমার ৫ বছর বয়সের নাতি কাওসারকে চিকিৎসার জন্য এনেছি। জিনের বাদশাকে দেখানোর পর বলেছেন, আপনার নাতির ‘আচমকা’ রোগ হয়েছে। কাওছারকে আসনের পাশে তিন ঘণ্টা ধরে শুইয়ে রাখা হয়েছে। কবিরাজ বলছেন, ঠিক হয়ে যাবে।

রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোন ইউনিয়নের আয়নাল হক বলেন, আমার ছেলে শহিদুল দীর্ঘদির ধরে বুকের ব্যথায় আক্রান্ত। কবিরাজকে তিন দফায় ৬ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। প্রায় ছয় মাস চিকিৎসা করা হলেও কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। জিনের বাদশার লোকজনকে বললে তারা এখন আর ভালো করে কথা বলেন না।

চিকিৎসার বিষয়ে জিনের বাদশা হাফিজুল ইসলামের বাবা হবিবর রহমান বলেন, আমার বাপদাদা এভাবে চিকিৎসা করতেন। সেই পেশাটা এখন আমার ছেলে করছে।

সরকারি কোনো অনুমতি আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, কাগজপত্র জমা দিয়েছি, অচিরেই অনুমতি পাব।

রায়গঞ্জ থানার ওসি পঞ্চানন্দ দাসকে বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি বলেন, সরেজমিনে তদন্ত করে জিনের বাদশার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা …