সংবাদ শিরোনামঃ
ভোলার উওর দিঘলদীতে চাঁদা না দেওয়ায় প্রবাসির উপর হামলা আহত : ১ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর সব চেয়ে নৃশংস রাজনৈতিক ঘটনা: সেতুমন্ত্রী চকরিয়া প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন জাহেদ চৌধুরী সভাপতি, মিজবাউল হক সম্পাদক নিউইয়র্কে লাঞ্ছিত ইমরান এইচ সরকার (ভিডিও) ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশের সহযোগীতায় গড়েয়া গরুর হাটে জাল নোট সনাক্তকরণ বুথ দেবীগঞ্জে জাতীয় শোক দিবস পালিত এ দেশের মানুষকে কেউ দাস বানিয়ে রাখতে পারবে না: ড. কামাল বীরগঞ্জে এতিম ও ছিন্নমূল শতাধিক পথ শিশুদের  মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ বান্দরবানে ইয়াংছা-বনপুর সড়ক যেন মরণফাঁদ ! লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের শোক র‌্যালী



শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরলেও আতঙ্কে অভিভাবকরা

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৭ আগস্ট, ২০১৮

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে আতঙ্কে রয়েছেন অনেক অভিভাবক। তারা সন্তানকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।

এ ছাড়া স্কুল-কলেজের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষের পর বন্ধ রয়েছে বেশ কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে ক্যাম্পাসগুলোয় বিরাজ করছে এক ধরনের নীরবতা।

বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে কয়েক দিন ধরে রাজধানীর বেশিরভাগ স্কুল-কলেজে ক্লাস হয়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গতকাল সোমবার আবার ক্লাস শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল।

বিভিন্ন স্কুল-কলেজে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার ক্লাসশুরু হওয়ার পর মঙ্গলবার রাজধানীর স্কুলগুলোয় শিক্ষার্থী উপস্থিতি বেড়েছে।

যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুই শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে, সেই শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি রোববার কম থাকলেও গতকাল প্রায় ৮০ শতাংশ উপস্থিতি ছিল বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগম জানান, গতকালের চেয়ে আজ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেশি। এ সপ্তাহের মধ্যেই এ উপস্থিতি শতভাগে উন্নীত হবে বলে আশা করছেন তিনি।

তবে কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলছেন, সন্তানকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাতে ভরসা পাচ্ছেন না তারা। যে অভিভাবকরা সাহস করে সন্তানকে পাঠাচ্ছেন, তারাও সন্তান ঘরে না ফেরা পর্যন্ত আতঙ্কে থাকছেন।

গতকাল রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের (এখানে স্কুল শাখা আছে) অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, এ স্কুলে একদিন না গেলেই ১০০ টাকা জরিমানা দিতে হয়। একটানা তিন দিন অনুপস্থিত থাকলে ভর্তি বাতিল করে দেয়। তাই ছেলেকে স্কুলে না পাঠিয়ে উপায় নেই।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ধানমণ্ডি শাখার এক শিক্ষার্থী জানায়, গতকাল শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল। এর মধ্যেই অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফল দিয়েছেন শিক্ষকরা। এ ছাড়া শিক্ষকরা প্রতি ক্লাসে এসে বলে গেছেন, মঙ্গলবার (আজ) থেকে কেউ যাতে স্কুলে অনুপস্থিত না থাকে।

স্কুল-কলেজের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। সোমবার রাজধানীর উত্তরা, কুড়িল বিশ্বরোড ও রামপুরাসহ বিভিন্ন স্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নেয়। এর পরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে যায়।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে অভিযানে যায় তারা। বেলা ১১টার পর থেকে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিকাল পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে অনেক শিক্ষার্থী আহত হন। সেখান থেকে আটক করা হয় প্রায় ৪০ শিক্ষার্থীকে।

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির এক অভিভাবক বলেন, সোমবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় সারা দিন মেয়ে আটকে ছিল ক্যাম্পাসে। এ অবস্থাতেও বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষা নিয়েছেন শিক্ষকরা। বিকাল ৫টার দিকে শিক্ষক ও পুলিশের সহায়তায় মেয়ে কোনো রকমে বাসায় ফিরেছে। পরিস্থিতি শান্ত না হলে কোনো অবস্থাতেই মেয়েকে ক্যাম্পাসে যেতে দেবেন না বলে জানান তিনি।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান বলেন, গতকাল থেকেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তারা আশা করছেন, আজকালের মধ্যে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

গত ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ঘটনার পর রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় আন্দোলনে নামেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গত বৃহস্পতিবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু তাতেও আন্দোলন থামেনি। এ কারণে কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগেই ছুটি ঘোষণা করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা …