রুপগঞ্জে নিহত ৩ যুবককে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়েছিল

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

শুক্রবার ভোরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল এলাকায় যে তিন যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তাদেরকে দুদিন আগে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিহত ৩ যুবককে পূর্বাশা পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস থেকে গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে তিনটার দিকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন নিহতের স্বজন এবং ওই পরিবহনের সুপারভাইজার আশরাফুল ইসলাম।

‘রুপগঞ্জে নিহত ৩ যুবককে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়েছিল’

কালের কণ্ঠ অনলাইন

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৮:৫৬

‘রুপগঞ্জে নিহত ৩ যুবককে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়েছিল’

অ- অ অ+

শুক্রবার ভোরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল এলাকায় যে তিন যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তাদেরকে দুদিন আগে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিহত ৩ যুবককে পূর্বাশা পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস থেকে গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে তিনটার দিকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন নিহতের স্বজন এবং ওই পরিবহনের সুপারভাইজার আশরাফুল ইসলাম।

পূর্বাশা পরিবহনের সুপারভাইজার আশরাফুল ইসলাম জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ৯ টায় বাসটি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে ছেড়ে আসে, নিহত তিনজন কালিগঞ্জের লালপুর কাউন্টার থেকে গাড়িতে উঠে। পরে ভোর সাড়ে তিনটার দিকে পাটুরিয়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় ১৭/১৮ জন ডিবি পরিচয়ে ওই তিনজনকে তুলে নেয়।

পূর্বাশা পরিবহনের সুপারভাইজারের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন নিহত শিমুলের স্ত্রী আয়েশা আক্তার। তিনি জানান, গত বুধবার দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী বাস থেকে তার স্বামীসহ অন্যদের সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়। দুটি মাইক্রোবাস ও একটি গাড়িতে করে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে শিমুল নিখোঁজ ছিলেন। তার মুঠোফোন বন্ধ ছিল। খবর পেয়ে থানায় এসে তিনি স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন। তার স্বামী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানান তিনি।

‘রুপগঞ্জে নিহত ৩ যুবককে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়েছিল’

কালের কণ্ঠ অনলাইন

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৮:৫৬

‘রুপগঞ্জে নিহত ৩ যুবককে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়েছিল’

অ- অ অ+

শুক্রবার ভোরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল এলাকায় যে তিন যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তাদেরকে দুদিন আগে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিহত ৩ যুবককে পূর্বাশা পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস থেকে গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে তিনটার দিকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন নিহতের স্বজন এবং ওই পরিবহনের সুপারভাইজার আশরাফুল ইসলাম।

পূর্বাশা পরিবহনের সুপারভাইজার আশরাফুল ইসলাম জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ৯ টায় বাসটি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে ছেড়ে আসে, নিহত তিনজন কালিগঞ্জের লালপুর কাউন্টার থেকে গাড়িতে উঠে। পরে ভোর সাড়ে তিনটার দিকে পাটুরিয়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় ১৭/১৮ জন ডিবি পরিচয়ে ওই তিনজনকে তুলে নেয়।

পূর্বাশা পরিবহনের সুপারভাইজারের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন নিহত শিমুলের স্ত্রী আয়েশা আক্তার। তিনি জানান, গত বুধবার দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী বাস থেকে তার স্বামীসহ অন্যদের সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়। দুটি মাইক্রোবাস ও একটি গাড়িতে করে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে শিমুল নিখোঁজ ছিলেন। তার মুঠোফোন বন্ধ ছিল। খবর পেয়ে থানায় এসে তিনি স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন। তার স্বামী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানান তিনি।

নিহত সোহাগের ভাই মো. শাওনের তথ্য মতে, গত বুধবার বেড়াতে গিয়ে তার বড় ভাই নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ফেসবুকে ছবি দেখে তারা রূপগঞ্জ থানায় এসে মরদেহ শনাক্ত করেন। তার ভাই ফাস্টফুড বার্গার ও স্যাটেলাইট ক্যাবল নেটওয়ার্কের ব্যবসা করতেন।

পূর্বাচলে নিহত তিন যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তাদের সবাই ঢাকায় বসবাস করতেন। নিহতরা হলেন- রাজধানীর মহাখালীর দক্ষিণ পাড়া এলাকার শহীদুল্লাহর ছেলে মো. সোহাগ ভূইয়া, মুগদা এলাকার আবদুল মান্নানের ছেলে শিমুল আজাদ, তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের কালিগঞ্জের ঘোরেলা এবং মুগদা এলাকার আবদুল ওয়াহাব মিয়ার ছেলে নূর হোসেন বাবু, তার গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ির পাইকপাড়ায়। শিমুল ও নূর হোসেন সম্পর্কে ভায়রাভাই।

নিহতদের লাশ নারায়নগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বলেও জানান রূপগঞ্জের ওসি।

শুক্রবার সকালে পূর্বাচল ১১ নম্বর ব্রিজ এলাকায় সড়কের পাশে তিন যুবকের মরদেহ দেখে স্থানীয় লোকজন। পরে তারা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ওই এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ মরদেহগুলো উদ্ধার করে। নিহত তিন যুবকের পরনে প্যান্ট, শার্ট ও গেঞ্জি ছিল।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোহাগ ভূইয়ার নামে বনানী থানায় চারটি মাদক ও একটি হত্যা মামলাসহ মোট পাঁচটি মামলা ছিল। শিমুল আজাদের নামে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে মাদকের একটি মামলা ছিল। নূর হোসেনের নামে সম্ভাব্য দুটি মাদক, দুটি বিস্ফোরক ও একটি অন্যান্য মামলা আছে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা …