সৌদি সরকারের পরিকল্পনার বেড়াজালের ঝুঁকিতে লাখ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

বেলাল আহমদ,ভোরের সূর্য :

সৌদি আরবে বেকারত্ব নিরসনে সরকারি-বেসরকারি খাতে বিদেশি শ্রমিক ছাঁটাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। বেকারত্বের হার ১২ দশমিক ৮ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন তারা।

সৌদি আরবে দেশটির সরকার একের পর এক পরিকল্পনা নিচ্ছে। আর এসব পরিকল্পনার বেড়াজালে আটকে বিপাকে পড়ছেন বাংলাদেশি প্রবাসী ব্যবসায়ীরা। আরবির নতুন বছর থেকে চার ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লোকবল নিয়োগে ৭০ শতাংশ সৌদিকরণ বাধ্যতামূলক করেছে সৌদি সরকার। এ নিয়মের বাইরে কাউকে পেলে জেল থেকে শুরু করে মোটা অঙ্কের জরিমানার বিধান করা হয়েছে।

এর ফলে ঝুঁকিতে রয়েছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা।
এমনকি বিভিন্ন সুপার মল কিংবা প্রতিষ্ঠানে পুলিশি অভিযান চালাচ্ছে। এমতাঅবস্থায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে দেশটিতে।

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞায় থাকা ১২টি সেক্টরের মধ্যে গৃহস্থালি-অফিসিয়াল ফার্নিচার, পাইকারি ও খুচরা পোশাক বিক্রি ও গৃহস্থালি তৈজসপত্রের ব্যবসায় যুক্ত রয়েছেন বাংলাদেশিরা। নতুন এ ঘোষণার ফলে সৌদিতে বাংলাদেশি শ্রমিকরা নতুন ব্যবসা খুঁজছেন। আবার অনেকেই নতুন করে ঝামেলায় না জড়িয়ে দেশে ফেরার চিন্তা করছেন।

বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত গোলাম মসি সাংবাদিকদের জানান, সৌদি সরকারের সিদ্ধান্ত এখনও বাস্তবায়িত হয়নি, তবে ধীরে ধীরে হবে। আমাদের লোকজন কিছুটা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে চেষ্টা চলছে, নতুন নতুন সেক্টরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে। সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।

সৌদির শ্রম ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রী আলী আল ঘাফিস দেশটির গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিদেশি শ্রমিকের পরিবর্তে সৌদি নাগরিকদের নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত মানা না হলে শ্রম আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশটির শ্রম ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় বলছে, ১২টি খাতে দেশটির নারী-পুরুষ ছাড়া অন্য কোনও দেশের নাগরিকরা এখন থেকে কাজ করতে পারবেন না। খাতগুলো হলো- মোটরযান এবং এর যন্ত্রাংশ খুচরা বা পাইকারি বিক্রয় কেন্দ্র, পাইকারি ও খুচরা পোশাক, কাপড়-জুতা-প্রসাধনী বিক্রয় কেন্দ্র, গৃহস্থালি-অফিসিয়াল ফার্নিচার বিক্রয় কেন্দ্র, গৃহস্থালি তৈজসপত্র এবং হাঁড়ি-পাতিল বিক্রয় কেন্দ্র সহ
নিত্য প্রয়োজনীয় কিচেন সামগ্রীর দোকানে লোকবল নিয়োগে ৭০ শতাংশ সৌদিকরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

যে চার ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য এ নিয়মন চালু করা হয়েছে তার মধ্যে গার্মেন্টস সেক্টরে সব থেকে বেশি বাংলাদেশি রয়েছেন। আর এতে করে এমন নিয়ম অব্যাহত থাকলে দেশে রেমিটেন্সের উপর বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা।

এদিকে রিয়াদের বেশকিছু সুপারমল থেকে শুরু করে নানা স্থানে মঙ্গলবার সকাল থেকে এসব দোকান বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।

কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপ কালে জানা যায়, তারা আতঙ্কে রয়েছেন। কী করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। লাখ লাখ সৌদি রিয়াল খরচ করে তিলে তিলে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়তে হবে তা কখনো কল্পনাও করেননি তারা। অন্যদিকে ৭০ শতাংশ সৌদিকরণ নিয়ে তারা বলেন, আমরা যেভাবে কাজ করবো, আমাদের প্রতিষ্ঠানে সেভাবে কখনো সৌদি দিয়ে কাজ করিয়ে লাভের মুখ দেখবো না আমরা। তার উপরে বর্তমান বাজার খুব মন্দা।

সম্প্রতি সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয় জানায়, ১২টি সেক্টরে ৭০ শতাংশ সৌদিকরণ বাস্তবায়নের জন্য তিন ধাপে পদক্ষেপ নেয়া হবে। প্রথম ধাপ আজ শুরু হলো।

দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে ১০ নভেম্বর।

উল্লিখিত সবগুলো সেক্টরে বর্তমানে বাংলাদেশিসহ প্রবাসী শ্রমিকরা কর্মরত আছেন। সৌদিকরণের এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়াতে কাজ হারাবেন সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি সহ লাখ লাখ বিদেশি নাগরিক।

ইতিমধ্যেই ফেরৎ পাঠানো হচ্ছে হাজার হাজার বাংলাদেশিদের তাদের পরিবারে নেমে আসছে অন্ধকারাচ্ছন্ন আর হতাশা।

সৌদিআরব থেকে অনেকে জানান,সরকার যদি দ্রত কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করেন তাহলে তাদের দেশে ফিরে আসা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতি আকুল আবেদন জানান সেখানে বসবাসরত লাখ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা …