এক, মানুষ গড়ার কারিগর গুরুত্বর অসুস্থ, দেখার যেন কেউ নেই!

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

নীলফামারী প্রতিনিধি:

তিনি একজন শিক্ষা প্রেমী সাদা মনের মানুষ, তার জীবনে তিনি অসংখ্য স্কুল মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে নিজের সহায় সম্বল শেষ করে আজ তিনি নিঃস্ব, এমনকি তাঁর বাড়ির জমি টুকুও আজ নেই।

অন‍্যের জমিতে বসবাস করছেন। তাঁর গড়া প্রতিষ্ঠানে কয়েকশ লোক কর্মরত থাকলেও তা‌ঁর খোঁজ খবর নেওয়ার মত যেন আজ কেউ নেই!এই মহান ব‍্যক্তিটি আজ মৃত্যু সাথে লড়াই করছে। অর্থ অভাবে ঠিকমত চিকিৎসাও হচ্ছে না।

এই মহৎ ব্যক্তির নাম ‘মৌলভী মোঃ হফিজ উদ্দিন। নীলফামারী সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের কানিয়াল খাতা মৌজার মুন্সীপাড়া গ্রামে বাস করেন তিনি। তিনি পাকিস্তান আমলে কামিল পাশ করেন।একাধারে দীর্ঘদিন স্বেচ্চায় নিজ গ্রাম সহ বিভিন্ন জায়গায় মসজিদের মোতাওয়াল্লী করেছেন।

কানিয়াল খাতা দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় তার বিশেষ অবদান রয়েছে। ৩৬ বছরের শিক্ষকতার জীবনে তিনি প্রথমে ১৯৮১ সালে কানিয়াল খাতা দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পায় এবং পরে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন।সারাজীবন ‘মানুষ গড়ার কারিগরে’ নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

তার হাতে গড়া শিক্ষার্থীরা আজ দেশে বিদেশে নিজ নিজ অবস্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত। অনেকেই আছেন তার মতো শিক্ষকতার মহান পেশায় নিয়োজিত।৩৬ বছরের শিক্ষকতার জীবনে তিনি কত হাজারজনের জীবনে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন তার হিসাব করতে হলে রিতিমত হিমসিম খেতে হবে হয়তো।

৮৭ বছর বয়স হলেও তিনি এখনো গ্রামের মক্তবে ঝড়ে পড়া ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা দেন এবং স্কুল গামী করে গড়ে তোলেন।

তিনি কখনো নিজের জন্য ভাবেন নি, নিজের জন্য কিছু করেন নি। ব্যাক্তি জীবনে তিনি ছিলে সৎ ও অত্যন্ত ধার্মীক, মৌলভী মোঃ হফিজ উদ্দিন আট সন্তানের জনক।বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করলেও শেষ বয়সে সরকারি ও বেসরকারি কোন তহবিল থেকে কোন রকম সুযোগ সুবিধা পায়নি অভিযোগ করেছে তার পরিবার। অর্থের অভাবে শেষ পর্যন্ত নিজের সন্তানদেরকেই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারেন নি।

অনেক কষ্টে তিন কন্যা ও চার ছেলেকে বিয়ে দিয়েছেন, এবং ছোট ছেলে নিজে অর্থ উপার্জন করে কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছে।সম্প্রতি মানুষ গড়ার এ কারিগর গতকয়েকদিন থেকে গুরুত্বর অসুস্থ।

এ বিষয়ে কানিয়াল খাতা মুন্সিপাড়া গ্রামের সমাজ সেবক ও কানিয়াল খাতা দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, মৌলভী মোঃ হফিজ উদ্দিন ভাই আমার নিকট আত্মিয়, আমার অভিভাবক, কাছের প্রিয় একজন মানুষ, তিনি সৎ ও অত্যন্ত ধার্মীক ব্যক্তি, তিনি নিজের জন্য কিছু করেন নি, সবসময় মানুষের উপকার করে থাকেন, কানিয়াল খাতা দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় ওনার অতুলনীয় অবদান রয়েছে, প্রতিষ্ঠাকালে উনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, ওনার উন্নত চিকিৎসার জন্য মাদ্রাসার পক্ষ থেকে কিছু সহোযোগীতা করা যায় কি না এ বিষয়ে, ইটাখোলা ইউনিয়নের চ্যায়ারম্যান, ও মাদ্রাসার সভাপতি, হাফিজুর রশিদ মঞ্জু ভাই ও স্থানীয় মেম্বার হামিদুল ইসলাম সহ মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটি ও শিক্ষকদের সাথে কথা বলব।

এ দিকে স্থানীয় মেম্বার ও মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মোঃ হামিদুল ইসলাম জানান, গত বছরে আমি ওনার জন্য বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিয়েছি, ওনার মত মহৎ ও ভাল মানুষ এখন খুঝে পাওয়া দায়।

আমি ওনার উন্নত চিকিৎসার ব্যাপারে ইটাখোলা ইউনিয়নের চ্যায়ারম্যান ও মাদ্রাসার সভাপতি, হাফিজুর রশিদ মঞ্জু ভাইর সাথে কথা বলে মাদ্রাসা কমিটির সাথে কথা বলব কারণ এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।মাদ্রাসার সহকারী প্রধান শিক্ষক, মোহাম্মাদ আলী সিরাজি জানান, মৌলভী মোঃ হফিজ উদ্দিন ভাই আমার নিকট আত্মিয়, কাছের একজন মানুষ, আমি ব্যক্তিগত ভাবে ও মাদ্রাসার পক্ষথেকেও ওনাকে দেখার জন্য বেশ কয়েকবার গিয়েছিলাম এবং চিকিৎসার জন্য আজ শনিবার ওনার সাথে রংপুরে যাচ্ছি , রংপুর থেকে ফিরে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে সহোযোগীতার ব্যাপারে আগামি কাল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক সাবেদ আলী স্যারের সাথে কথা বলব।

নীলফামারীর জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা “নীল কাগজ টিম ও আলোচিত অন-লাইন পোর্টাল দৈনিক ভোরের সূর্যের জেলা প্রতিনিধি এই মহৎ শিক্ষককে দেখতে গেলে তিনি অসুস্থ অবস্থায় বলার চেষ্টা করেছেন, সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন। বিশেষ করে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত তার সকল ছাত্রছাত্রীদের কাছে দোয়া প্রার্থী।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা …