জীবিকা নির্বাহে মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় সৈনিক এখন অটোরিকশা চালক!

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
হাফিজুল ইসলাম লস্কর, সিলেট :: ১৯৭১ থেকে ২০১৮, স্বাধীনতা অর্জনের পেরিয়ে গেছে ৪৭ বছর। সেদিনকার সাড়ে ৭ কোটি বাঙ্গালী এখন ১৮ কোটিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। উন্নয়ন আর উৎপাদনে বদলে গেছে বাংলাদেশ। সব কিছুতে আধুনিকতার ছাপ। ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু পাল্টায়নি মুক্তিযোদ্ধা হারুন মিয়ার ভাগ্য।

বাংলার স্বাধীনতার অকুতোভয় সৈনিক
মুক্তিযোদ্ধা হারুন মিয়া স্ত্রী, সন্তান নিয়ে অর্ধহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। বয়সের ভারে ন্যুজ বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধার যখন বিশ্রামের কথা তখন তাকে জীবিকার সন্ধানে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালাতে হচ্ছে।
৭১-এ হারুন মিয়া ছিলেন টগবগে একজন যুবক। মা-বাবাকে বাড়িতে রেখে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। জীবনবাজি রেখে যুদ্ধে করার পর এ দেশ স্বাধীন হলেও জীবন যুদ্ধে আজ তিনি পরাজিত সৈনিক।

মুক্তিযোদ্ধা হারুন মিয়ার বাড়ী সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণবাগ ভাদেশ্বর গ্রামের মৃত আব্দুল মাজ্জাদ ও মৃত আমিনা খাতুনের ছেলে হারুন মিয়া। হারুনের বয়স ৬৯ বছর। তিনি ১ ছেলে ও ২ মেয়ের জনক। সহায় সম্বলহারা এই মুক্তিযোদ্ধার আশ্রয়ের জন্য নেই কোন নিজস্ব ভিটে মাটি।
বর্তমানে তিনি পরিবারসহ সিলেটের ইসলামপুর এলাকার দেবীকা ৯নং বাসায় ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করছেন। আয় রোজগারের কোন পথ না পেয়ে বৃদ্ধ বয়সেও একটি সিএনজি দৈনিক ৫ শত টাকা ভাড়া নিয়ে চালান তিনি। পরিবার চালাতে হিমশিম অবস্থার মধ্যে আছেন তিনি। ৫ বছর যাবত সরকারী সুযোগ সুবিধা পাওয়ার পরও বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন মিয়ার অভাবে চলছে তার সংসার।
বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন মিয়া তার যুদ্ধকালীন সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ৭১-এ যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবরুল হোসেন বাবুলের নেতৃত্বে ৪নং সেক্টর ১২ কুঞ্জিতে গিয়ে ৪নং সেক্টর কমান্ডার চিত্তরঞ্জন দত্ত এর সাথে দেখা হয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। তার বহি নং ৩৩০।
আলাপকালে তিনি আরো জানান, যুদ্ধচলাকালীন সময়ে সামনে অনেক সহযোদ্ধার মৃত্যু দেখেছেন। যুদ্ধের পর দেখেছেন অনেক রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধা সাজতে। অথচ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৭ বছরেও ভাগ্যেরবদর হয়নি তার। সরকার প্রদত্ত যে ভাতা পাই, তা দিয়ে সংসার চালানো কষ্টসাধ্য। তাই বাধ্য হয়ে পেটের দায়ে অটোরিকশা চালাই। তিনি সরকারসহ সকলের নিকট সহযোগীতা কামনা করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা …