সাঈদীর নামে কোরবানি দিয়ে ফেঁসে গেলেন সাহেব আলী!

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত মাওলানা দেলোয়ার হুসাইন সাঈদীর নামে পবিত্র ঈদুল আজহায় গরু কোরবানি দেয়ায় জামায়াত নেতা সাহেব আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এর আগে, ঈদে সাঈদীর নামে গরু কোরবানি করার ঘটনা প্রকাশ্যে আসলে পুলিশ তাদের আটক করতে মাঠে নামে। কিন্তু, অভিযুক্ত প্রধান ব্যক্তি সাহেব আলী ভারতে পালিয়ে যায়। বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোমরা ইমিগ্রেশন দিয়ে দেশে ফেরার সময় ভোমরা ফাঁড়ি পুলিশ তাকে আটক করে সদর থানায় সোপর্দ করে।

জানা গেছে, আটককৃত সাহেব আলী ভোমরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘এই ঈদের সময় সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী হাড়দ্দাহ, বৈচনা, চৌবাড়িয়া, ভোমরা, লক্ষীদাড়ীর এলাকার সক্রিয় জামায়াত নেতাদের সংঘবদ্ধ করে সাঈদীর নামে গরু কোরবানি করেন।’

‘সাহেব আলী পবিত্র ঈদুল আজহায় মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত সাঈদীর নামে কোরবানি করেছেন। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহ অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। তাকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন গ্রেফতার করা হয় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলোয়ার হুসাইন সাঈদীকে।

এরপর একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পিরোজপুরে হত্যা, লুণ্ঠন, নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পরের বছর ১৪ জুলাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল।

২০১৩ সালে ট্রাইবুনালের রায়ে বলা হয়, ১৯৭১ সালে সংঘটিত হত্যা, লুণ্ঠন, নির্যাতনসহ অন্তত ২০টি মানবতাবিরোধী অভিযোগের মধ্যে আটটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

১৯৭১ সালে মানবতা-বিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দেলোয়ার হুসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আপীল বিভাগ দেলোয়ার হুসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়।

বিডি২৪লাইভ/টিএএফ/ওয়াইএ

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা …